৭ম শ্রেণী ৫ম সপ্তাহের এসাইনমেন্ট সমাধান ২০২১
সপ্তম/ ৭ম শ্রেণী ৫ম সপ্তাহের এসাইনমেন্ট উত্তর
এসাইনমেন্ট কার্যক্রম সাময়িক বন্ধ থাকার পর গত ২৪ মে ২০২১ তারিখে পূণরায় সপ্তম শ্রেনীর এসাইনমেন্ট প্রকাশ করা হয়েছে । ৫ম সপ্তাহে মোট ২টি বিষয়ের উপর নির্ধারিত কাজ এসাইনমেন্ট জমা দিতে হবে ।
৭ম শ্রেণী বাংলা অ্যাসাইনমেন্ট এর সমাধান
উত্তর:
আজকের এই আধুনিক সভ্যতার ভিত্তি হলাে অনেক শ্রমজীবী মেহনতি মানুষের অক্লান্ত পরিশ্রম , যা হাজার হাজার বছর ধরে চলে আসছে । সাধারণত শ্রমজীবী মানুষের রক্ত ও ঘামে মানবসভ্যতার অনেক উন্নত সাধিত হয়েছে, যা থেকে সেই শ্রমজীবী জনগােষ্ঠীর কাছ থেকেছে উপেক্ষিত । আজকের এই আধুনিক উন্নত এবং সমৃদ্ধ যা পৃথিবীর কারিগর যারা এখন এরা সবাই অবহেলিত, নির্যাতিত, নিপীড়িত, লাঞ্চিত, ইত্যাদি | সমাজে বঞ্চিত শ্রমজীবী মানুষের অধিকার আদায়ে অব্যাহত নিয়জিত রয়েছে নিরন্তর। তবে সময়ের পরিক্রমায় এই অধিকার শব্দটির সুদৃঢ় শক্তি, সামাজিক ও রাজনৈতিক চিন্তা – চেতনা, ধ্যান-ধারণা এবং দর্শনকে প্রভাবিত করেছে, তাছাড়া ও পরিবর্তন সাধিত করেছে।
খেটে খাওয়া মানুষ ও শ্রমজীবী মেহনতি মানুষের অধিকার আদায়ের জন্য আন্দোলনের প্রবল পৃথিবীর মানুষ । দেশে দেশে এসব অধিকার বঞ্চিত মেহনতি মানুষের মধ্যে এক নবতর জাগরণের প্রস্ফুটন ঘটায় । তাই শ্রমজীবী মানুষের অধিকার আদায়ের আন্দোলন, সংগ্রামের পথপরিক্রমায় গতিশীল অনেক উন্নত হয়েছে। তাই এইসব মানুষের মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় গণতান্ত্রিক আদর্শের অগ্রযাত্রী ।
আমাদের সমাজে শ্রমজীবী মানুষের কতটুকু৷ অবদান এবং তাদের মূল্যায়ন কীভাবে করবাে তা নিচের সুন্দর ভাবে উপস্থাপন করা হলাে :
১. কুলি :
সাধারণত কুলিরা রেলস্টেশনে বিভিন্ন যাত্রীদের মালামাল নির্দিষ্ট স্থানে বা জায়গায় পৌঁছে দেয়।
কুলিরা সাধারণত বাস স্টেশন, রেলস্টেশন অথবা নােঘাটে যাত্রী কিংবা পরিবহন সামগ্রী নিয়ে উঠা নামানাের কাজ করে থাকে।
আবার বিভিন্ন বাণিজ্যিক পণ্য পরিবহনের কাজও কুলিরা করে থাকে ।
তাছাড়া তাদেরকে ভূ-গর্ভস্থ বিভিন্ন খনি হতে মালামাল উঠানাের কাজ করতে ও দেখা যায়।
২. রাজমিস্ত্রি :
রাজমিস্ত্রিরা ইট, সিমেন্ট, বালু, লােহার রড ইত্যাদি দিয়ে ঘর – বাড়ি দালান তৈরি করে।
একজন রাজমিস্ত্রি একটি বাড়ি নির্মাণ কাজের শুরু থেকে এবং শেষ পর্যন্ত তার সহযােগীদের সাথে মিলে কাজটা সম্পন্ন করেন।
পাইলিং, তাছাড়া ভবনের অবকাঠামাে দাঁড় করানাে, ছাদ ঢালাই, প্লাম্বিংসহ অন্য যে কোন অবকাঠামাের অধিকাংশ কাজ একজন রাজমিস্ত্রি করে থাকে।
এছাড়াও কার্লভাট তৈরি থেকে শুরু করে সীমানা প্রাচীর তৈরি,গুদাম ঘর তৈরি ইত্যাদি কাজ ও রাজমিস্ত্রি করে থাকে।
৩. কামার :
আমরা সবাই জানি, কামার একটি প্রাচীন পেশা। যার কাজ লােহার জিনিসপত্র তৈরি করা ।
আমাদের গৃহস্থালি এবং কৃষিকাজে ব্যবহৃত অধিকাংশ লেহজাত যন্ত্রপাতি কামাররা প্রস্তুত করে থাকেন । যার মধ্যে উল্লেখযােগ্য হচ্ছে দা, বটি, শাবল, কুড়াল, ছুরি ইত্যাদি ।
এ ছাড়াও কোরবানি ঈদে জন্য ব্যবহৃত দা – ছুরি তৈরি এবং তাতে ধার বা শাণ দেওয়া ও কামাররাই করে থাকে।
৪. মুচি :
আমরা সবাই জানি মুচি সাধারণত জুতা তৈরি এবং জুতা মেরামতের কাজ করেন ।
ত্রুটিযুক্ত জুতা, ছিরা জুতা এবং পুরনাে জুতা, মেন্ডেল মেরামত করে তা আবার ও রং মাখিয়ে পুরাতন জুতায় চাকচিক্য সৃষ্টি করে নতুন করে দেওয়া কাজও করে থাকেন ।
মুচির চামার কর্তৃক সংগৃহীত চামড়া ব্যবহার উপযােগী করে তােলেন অথবা বিক্রির জন্য ট্যানারিতে নিয়ে যান।
আমাদের সমাজে শ্রমজীবি মানুষদের যেভাবে মূল্যায়ন করবাে :
১. কুলি :
অনেক আগের থেকেই সারা বিশ্বের সবকিছুর সৃষ্টির নির্মাতা হলাে শ্রমিক,ও কর্মচারী এবং মেহনতি মানুষ। যুগের পর যুগ ধরে কুলি – মজুরের মত লক্ষ কোটি শ্রমজীবী মানুষের হাত ধরে গড়ে উঠেছে আমাদের এই মানব সভ্যতা । কুলি হলো তিনি যিনি তার অক্লান্ত পরিশ্রমের মাধ্যমে আয় করছেন, শ্রদ্ধার সাথে, বিনম্রতার সাথে, নিজ নিজ দেশের প্রগতির জন্য কাজ করে যাচ্ছেন । এবং তারাই আমাদের ভারী মালামাল এবং বিভিন্ন পণ্যসমূহ এক স্থান হতে অন্য স্থানে পরিবহন করে আমাদের উপকার করে।
তাদের এই শ্রম দিয়ে আমাদের অর্থনীতির বুনিয়াদ সৃষ্টি করেছে। তবে ধীরে ধীরে শ্রমিক শব্দটিকেও আমরা নিম্নপর্যায়ের অর্থে নিয়ে আসছি । আধুনিক যুগের এই ক্রীতদাস পর্যায়ে বছরের পর বছর বিভিন্ন স্টেশনে জায়গায় আমাদের লাগেজের ভার ও মালামাল বহন করে নিয়ে গিয়েছে এরাই । তাই কুলি -মজুরদের শ্রম ছাড়া কোন কিছুই উৎপাদিত হতে পারে না । একটি দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে জন্য শ্রমজীবী মানুষের মেধা ও তাদের পরিশ্রমের অবদান ছাড়া কোন কিছুই করা সম্ভব নয় । কুলি মজুরদের আমরা কখনাে ছােট চোখে দেখবাে না । কারণ আমাদের প্রয়ােজনেই তারাই কিন্তু এগিয়ে আসে। যদি তারা না থাকে তাহলে আমাদের ভারি ভারি মালামালগুলাে কে পৌঁছে দিত?
২. রাজমিস্ত্রি :
বিশ্বের এই মানবসভ্যতা গড়ে উঠেছে শুধুমাত্র মানুষের শ্রমের বিনিময়ে । একটি দেশের উন্নয়নের অন্তরালে থাকে শ্রমিক। তাছাড়া ও শ্রম মজুরদের অক্লান্ত পরিশ্রম , ব্যথা ও বেদনা । কিন্তু সে অনুযায়ী শ্রমিকদের সুযােগ সুবিধা বাড়ছে না । যাদের পরিশ্রমে ও ঘামে একটি একটি ইট সাজিয়ে কত বড়াে বড়াে ইমারত সদৃশ দেশ এগিয়ে যাচ্ছে তাদের যথাযথ সম্মান দেওয়া আবশ্যক। তাদের এই তৈরী করা ঘরেই আমরা চির শান্তিতে ঘুমাতে পারছি। এ সকল শ্রমজীবী মেহনতি মানুষের ধারা তৈরি হচ্ছে উৎপাদন, শিল্পােন্নয়ন , তথা অর্থনৈতিক উন্নয়নের অপরিহার্য উপাদান গুলা। যাদের অক্লান্ত পরিশ্রমের মধ্যে নিহিত থাকে একটি দেশের সম্ভাবনাময় ভবিষ্যৎ । আমাদের আশেপাশে এত সুন্দর সুন্দর দালান কোঠা সৃষ্টি হয়েছে যা শুধুমাত্র এই রাজমিস্ত্রিদের কল্যানেই। তাদের হাতের পরশেই গড়ে উঠেছে এত সুন্দর সুন্দর ইমারত । তাই আমাদের সবার উচিত তাদেরকে সম্মান করা , তাদের এইকাজ গুলোকে আরাে বেশি সম্মান দেওয়া এবং তাদেরকে কখনো ছােট চোখে না দেখা ।
৩. কামার :
বাংলাদেশ কৃষি প্রধান দেশ। তাদের কায়িক শ্রমেই তৈরি হয় কৃষি ও শিল্প কারখানার নানান জিনিস এবং সামগ্রী ।
সভ্যতা বিনির্মাণের কারিগর এ শ্রমজীবী মানুষরা সর্বদাই অবহেলিত হচ্ছে আমাদের সমাজে ও উপেক্ষিত । তাই শ্রমিকদের যথাযথ মজুরি , কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা এবং তাদের মােলিক চাহিদাগুলাে অবশ্যই আমাদের নিশ্চিত করতে হবে এবং আমাদের উচিত তাদেরকে সম্মানের দৃষ্টিতে দেখা । আবার কামার আছে বলেই, আজ কিন্তু আমরা লােহার জিনিস পত্রগুলাে ব্যবহার করতে পারছি। যদি তারা না থাকত তাহলে হয়তাে আজ আমরা লােহার জিনিসপত্রগুলাে আর ব্যবহার করতে পারতাম না । তাই সমাজে একজন সাধারন মানুষের মত কামারদেরও যথেষ্ট অবদান আছে । তাই আমাদের উচিৎ তাদেরকে কখনােই ছােট করে না দেখা ।
৪. মুচি :
যাদের অনেক ত্যাগে আমরা পেয়েছি এই সভ্য সমাজে মর্যাদা, এবং পথ চলতে পারি মুচি সম্প্রদায় তাদের মধ্যে অন্যতম । তবে আমাদের সমাজ এ মুচি শব্দটিকে প্রায় সবাই খুবই অসম্মানজনক ভাবে মনে করে।
তাই ছোট হক বড় হক সকল কাজ এবং সকল মানুষের প্রতি সম্মান জানাতে হবে এবং শ্রদ্ধা দেখাতে হবে।
৭ম শ্রেণী জীবন ও কর্মমূখী শিক্ষা এসাইনমেন্ট সমাধান
সভ্যতার বিকাশে কায়িক ও মেধা শ্রম উভয়ই গুরুত্বপূর্ণ।
উত্তর :
কথাই আছে পরিশ্রম সাফল্যের চাবিকাঠি। পরিশ্রম ছাড়া জীবনে কেউ কোন দিন উন্নতি করতে পারবে না । আমরা জানি শ্ৰম হলো দুই প্রকার- ১/ দৈহিক বা কায়িক এবং ২/ শ্রম ও মানসিক শ্রম। সাধারণত শারিরীক ভাবে খেটে যে শ্রম করা হয় তাকে দৈহিক বা কায়িক শ্রম বলা হয়। আর যে শ্রমে শুধু বৃদ্ধিমত্তা তথা জ্ঞান খরচ করা হয় তাকে মানসিক শ্রম বলে। তবে মানব জীবনে উভয় শ্রমই খুব মূল্যবান এ পৃথিবীতে যাবা প্রতিষ্ঠা লাভ করেছে তারা সবাই অক্লান্ত পরিশ্রমের মাধ্যমেই করেছে। পরিশ্রম ছাড়া জিবনে উন্নতি করা সম্ভব নয়। শ্রমহীন ও অলস জীবন পঙ্গু জীবনের অন্তর্ভুক্ত হয় । পৃথিবীতে বেঁছে থাকতে হলে সবাইকে কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমেই বেঁচে থাকতে হবে। আধুনিক বিশ্বে যত বিস্ময়কর আবিস্কার রয়েছে তার সব কিছুই নিরলস শ্রমের ফসল। তাই শ্রমহীন জীবন মানেই শুধু হতাশার কাফন জড়ানো এক জীবন্তু লাশ। আসলে শ্রমুবিমুখ মানুষ দেশ ও জাতির জন্য বােঝা সরুপ । অপরিশ্রমী মানুষ জীবনে কখনো উন্নতি ও সাফল্য অর্জন করতে পরবে না। তাই সকল উন্নতির মূলে হচ্ছে শ্রম।
পৃথিবীতে জ্ঞানী ব্যক্তিদের আচরণ এবং উপদেশ পর্যালােচনা করলে দেখা যায়,যে তারা কোনাে কাজকেই ছােট করে দেখেননি তারা । কোনাে শ্রমকেই তারা অমর্যাদা হানিকর বলে মনে করেন না। তাদের কাছে তারা মনে করে যে ছােট বড় কাজ বলে কিছু নেই। সকল কাজের প্রতিই তারা সমভাবে শ্রদ্ধাশীল। আর তাই সে কারণেই তারা উন্নতির চরম শিখরে পৌছে গেছে । একথা সত্য,যে পৃথিবীর যে জাতি শ্রমের প্রতি যত শ্রদ্ধাশীল, সে জাতি তত উন্নত ও সম্পদশালী। তাই মানব জীবনে শ্রমের গুরুত্ব অপরিসীম | শ্রমের প্রতি বিমুখের কারণেই আমরা আমাদের জাতীয় উন্নয়ন ও অগ্রগতিতে দিন দিন পিছিয়ে যাচ্ছি। তাই আমাদের দেশের এই জনসংখ্যাকে জনশক্তি হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। তাদের জন্য শ্রমের বিভিন্ন ক্ষেত্র গড়ে তুলতে হবে। সবাইকে কঠোর পরিশ্রমে উদ্বুদ্ধ করতে হবে। শ্রমের যথাযথ মূল্যায়ন করতে হবে। জনগণকে পরিশ্রমী করে তুলতে হকবে এবং তাদের জাতীয় উন্নতি ত্বরান্বিত করতে হবে। তাহলেই সকল অভাব অনটনের অবসান ঘটবে । তাই সভ্যতার বিকাশে কায়িক , ও মেধা শ্রম উভয়ই গুরুত্বপূর্ণ।
