গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষার তারিখ, মানব বন্টন ও খুটিনাটি সকল তথ্য

 

গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষার তারিখ, মানব বন্টন ও খুটিনাটি  সকল তথ্য


গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষার তারিখ, মানব বন্টন ও খুটিনাটি  সকল তথ্য

প্রিয় শিক্ষার্থীরা এবার যারা গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে চাচ্ছো তাদের জন্য আজকের এই খবর। ২০২০ সাল করোনার জন্য পরিক্ষা না হওয়ায়
এসএসসি /দাখিল এবং জেএসসি /জেডিসি এর রেজাল্টের গড় ভিত্তিতে এইচএসসি /আলিম বা সমমানের পরিক্ষার রেজাল্ট প্রকাশ করা হয়। যার ফলে ১০০℅ পাস নিশ্চিত হয়।
করোনার এই ঝুকি কমাতে গোটা কয়েকটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ব্যাতিত প্রায় ১৯ টি বিশ্ববিদ্যালয় এবার গুচ্ছ পদ্ধতিতে পরিক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহন করেছে।
আজ আমি তোমাদের কে গুচ্ছ পদ্ধতিতে ভর্তির সকল তথ্য আলোচনা করবো।

সোমবার (৮ মার্চ) দুপুর ১২টায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত উপাচার্যদের সমন্বয়ে গঠিত কোর কমিটির বৈঠকে গুচ্ছ পদ্ধতিতে পরিক্ষার আবেদনের এবং পরিক্ষার তারিখ প্রকাশ করা হয়।

আবেদন:-

গুচ্ছ পদ্ধতিতে ও আবেদনের প্রক্রিয়া হবে দুই ভাবে।
গুচ্ছ পদ্ধতিতে বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষে ভর্তির জন্য ১ থেকে ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা প্রাথমিক আবেদন করতে পারবেন।তারপর
প্রাথমিকভাবে যারা আবেদন করবে তাদের মধ্যে  থেকে মেধার ভিত্তিতে ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য যোগ্য শিক্ষার্থীদের ফলাফল ২৩ এপ্রিল স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রত্যেককে মেসেজের মাধ্যমে জানিয়ে দেওয়া হবে। গুচ্ছভুক্ত পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে কতজন আবেদন বা পরিক্ষা দিতে পারবে সে বিষয়ে আলাদাভাবে কোন তথ্য প্রকাশ করা হয়নি তবে বলা হয়েছে একযোগে যতজন শিক্ষার্থীর পরীক্ষা নেয়ার সুযোগ থাকবে  মেধার ভিত্তিতে ততজন শিক্ষার্থীকে চূড়ান্ত আবেদন করার সুযোগ দেয়া হবে।

আবেদনের যোগ্যতা :-

গুচ্ছ পদ্ধতিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায়  প্রাথমিক আবেদনে শিক্ষার্থীদের কোনো ফি বা টাকা প্রদান করতে হবে না। যেসব শিক্ষার্থী ২০১৯ বা ২০২০ সালে উচ্চমাধ্যমিক  ও সমমান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ তারাই আবেদন করতে পারবেন।
গুচ্ছ পদ্ধতিতে  প্রত্যেক আবেদনকারীকে ও ভর্তির জন্য আলাদা যোগ্যতা প্রয়োজন হবে।

আবেদনকারীর বিজ্ঞান শাখার জন্য ন্যূনতম জিপিএ ৮.০,
বাণিজ্য শাখার জন্য ন্যূনতম জিপিএ ৭.৫
এবং মানবিক শাখার জন্য ন্যূনতম জিপিএ ৭.০ থাকতে হবে। প্রত্যেক শাখায় এসএসসি বা সমমানের এবং এইচএসসি বা সমমানের পরীক্ষায় নূন্যতম জিপিএ ৩.৫ থাকতে হবে। অন্যতায় পরিক্ষায় অংশগ্রহণ করতে দেওয়া হবে না।

শুধু এ বছরের জন্যই গুচ্ছভুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য  ২০১৯ ও ২০২০ সালে উচ্চমাধ্যমিক বা সমমানের পরিক্ষায় উত্তীর্ণ  শিক্ষার্থীরা ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারবেন। আগামী বছর থেকে পূর্ববর্তী বছরের উত্তীর্ণ হওয়া  শিক্ষার্থীরা  অর্থাৎ সেকেন্ড টাইমার শিক্ষার্থীরা আবেদন করতে পারবেন না।


আরো পড়ুন!  

পরিক্ষার মানব বন্টন :

গুচ্ছ পদ্ধতিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা হবে
১০০ নম্বরের।
এই পরীক্ষা হবে বহু নির্বাচনী প্রশ্নে (এমসিকিউ) এর ভিত্তিতে । উচ্চমাধ্যমিকের পাঠ্যসূচির ভিত্তিতে বিজ্ঞান, মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা (বাণিজ্য) প্রত্যেকটি আলাদা  বিভাগের জন্য আলাদা তিনটি পরীক্ষা হবে। বিভাগ পরিবর্তনের জন্য আগের মতো আলাদা পরীক্ষা নেওয়ার সুযোগ নেই  একই সাথে পরিক্ষা নেওয়া হবে ।
প্রত্যেক বিভাগের জন্য আলাদা আলাদা মানববন্টন রয়েছে।


মানবিক বিভাগ

মানবিক বিভাগের পরীক্ষা হবে তিনটি বিষয় অর্থাৎ বাংলা, ইংরেজি এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিষয়ের ওপর।
এর মধ্যে বাংলায় নম্বর থাকবে ৪০, ইংরেজিতে থাকবে ৩৫ এবং আইসিটিতে নম্বর থাকবে ২৫ নম্বরের পরীক্ষা হবে।

বাণিজ্য বিভাগ

ব্যবসায় শিক্ষায় (বাণিজ্য) হিসাববিজ্ঞানে (২৫ নম্বর), ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা (২৫ নম্বর), ভাষা ( ২৫ নম্বরের মধ্যে বাংলায় ১৩ ও ইংরেজিতে ১২ নম্বর) এবং আইসিটি (২৫ নম্বর) বিষয়ে পরীক্ষা হবে।

বিজ্ঞান বিভাগ

আর বিজ্ঞানের শিক্ষার্থীদের ভাষা ( ২০ নম্বরের মধ্যে বাংলায় ১০ ও ইংরেজিতে ১০ নম্বর),
রসায়ন (২০ নম্বর), পদার্থ (২০ নম্বর)
এবং আইসিটি, গণিত ও জীববিজ্ঞান বিষয়ে পরীক্ষা দিতে হবে। এর মধ্যে আইসিটি, গণিত ও জীববিজ্ঞানের মধ্যে ঐচ্ছিক যেকোনো দুটি বিষয়ে পরীক্ষা দিতে হবে। যার প্রতিটির নম্বর হবে ২০ করে।

পরিক্ষার সময়সূচি :

প্রাথমিকভাবে বাছাই করার পর  শিক্ষার্থীদের মোবাইল ব্যাংকিং সেবার মাধ্যমে ৫০০/- (পাঁচশ) টাকা জমা দিতে হবে।  ২৪ এপ্রিল থেকে ২০ মে তারিখের মধ্যে ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য চূড়ান্ত আবেদন করতে হবে।
প্রত্যেক চূড়ান্ত আবেদনকারীরা ১ থেকে ১০ জুন তারিখের মধ্যে অ্যাডমিট কার্ড ডাউনলোড করতে পারবেন। ভর্তি পরিক্ষা শুরু হবে ১৯ জুন থেকে তিনটি ইউনিটে আলাদা তিনটি পরিক্ষা হবে।
সব পরীক্ষা নির্দিষ্ট পরীক্ষা কেন্দ্রে একযোগে দুপুর ১২টায় শুরু হবে।


গুচ্ছ বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকা 

  • ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়
  • শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়
  • খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়
  • হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়
  • মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়
  • নোয়াখালি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়
  • জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়
  • কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়
  • জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়
  • যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়
  • বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়
  • পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়
  • বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়
  • বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়
  • রাঙ্গামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়
  • রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়
  • বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ডিজিটাল ইউনিভার্সিটি
  • শেখ হাসিনা বিশ্ববিদ্যালয়
  • বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।

কেন্দ্র নির্বাচন :

প্রতিটা শিক্ষার্থী কমপক্ষে পাঁচটি পরীক্ষা কেন্দ্র নির্বাচন করতে পারবেন। ২০১৯ সালের পাস করা শিক্ষার্থীরা অর্থাৎ সেকেন্ড টাইমারদের বর্তমানে অধ্যয়নরত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ‘কেন্দ্র’ হিসেবে নির্বাচন  করতে পারবে না।

ভর্তি পরীক্ষার বিস্তারিত তথ্যাদি ভর্তি সংশ্লিষ্ট ওয়েবসাইট www.gstadmission.ac.bd) ও পরবর্তিতে আমাদের ওয়েবসাইটে আপডেট দেওয়া হবে।



Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url