নবম শ্রেণী ৬ষ্ঠ সপ্তাহের এসাইনমেন্ট সমাধান ২০২১

 

নবম শ্রেণী ৬ষ্ঠ সপ্তাহের এসাইনমেন্ট সমাধান ২০২১

নবম  শ্রেণীর  ৬ষ্ঠ সপ্তাহের এ্যাসাইনমেন্ট প্রশ্ন ও উত্তর ২০২১ | নবম শ্রেণী এসাইনমেন্ট এর প্রশ্ন মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাওশি) এর ওয়েবসাইট dshe.gov.bd -এ প্রকাশিত করা হয়েছে।কোভিড-১৯ এই মহামারির কারনে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার মত উপযুক্ত পরিবেশ এখনো তৈরী না হওয়ার কারণে এখনও সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা হয়েছে। 


তবে শিক্ষার্থীদের শিখন প্রক্রিয়া পড়াশোনায় অব্যাহত রাখতে গত বছরের ন্যায় ২০২১ শিক্ষাবর্ষে ধারাবাহিকভাবে এ্যাসাইনমেন্ট/ নির্ধারিত কাজের মাধ্যমে মূল্যায়নের ব্যবস্থার নিদের্শ দেওয়া হয়েছে  । চলুন, নবম শ্রেণীর ৬ষ্ঠ সপ্তাহের এ্যাসাইনমেন্ট প্রশ্ন ও উত্তর ২০২১ সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক।


নবম শ্রেণীর এসাইনমেন্ট সমাধান ২০২১

নবম শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের জন্য প্রতি সপ্তাহে 3-4 টি বিষয়ের উপর এ্যাসাইনমেন্ট প্রশ্ন বা নির্দিষ্ট কাজ দেওয়া হয়ে থাকে।প্রতি সপ্তাহের শুরুতে মাউশির ওয়েবসাইটে এ্যাসাইনমেন্ট প্রকাশ করা হয় এবং এ্যাসাইনমেন্ট শেষ করে সপ্তাহের শেষে জমা দিতে হবে । এভাবে নবম শ্রেণীর এ্যাসাইনমেন্ট সম্পন্ন করা হবে।

নবম শ্রেণী ৬ষ্ঠ সপ্তাহের এসাইনমেন্ট উত্তর

নবম শ্রেণির ৬ষ্ঠ সপ্তাহের নির্ধারিত কাজ প্রকাশ করা হয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তর এর ওয়েবসাইটে । এই সপ্তাহে ৪ টি বিষয়ের উপর এ্যাসাইনমেন্ট দেওয়া হয়েছে



নবম শ্রেণী ৬ষ্ঠ সপ্তাহের পদার্থ বিজ্ঞান  এসাইনমেন্ট উত্তর

প্রশ্নঃ

তােমার পদার্থ বিজ্ঞান বইয়ের ২৩নং পৃষ্ঠার চিত্র অনুসারে একটি স্লাইড ক্যালিপার্স আর্ট পেপারের | বই সাহায্যে তৈরী করে এর সাহায্যে একটি মার্বেলের আয়তন (কাজের ধারাবর্ণনাসহ) নির্ণয়। কর। যদি তােমার পরিমাপে ১০% আপেক্ষিক ক্রটি। থাকে তাহলে মার্বেলের আয়তন নির্ণয়ে শতাংশের হিসেবে ক্রটি কিরূপ হবে গাণিতিক ব্যাখ্যা দাও

উত্তরঃ শিঘ্রই দেওয়া হবে 


নবম শ্রেণী ৬ষ্ঠ সপ্তাহের হিসাব বিজ্ঞান  এসাইনমেন্ট উত্তর

প্রশ্নঃ

হিসাব বিজ্ঞান মানুষের মূল্যবােধ ও | জবাবদিহিতা সৃষ্টিতে গুরুত্বপর্ণ ভূমিকা রাখে।” এই সম্পর্কে একটি প্রতিবেদন | লেখ। (অনুর্ধ্ব -২৫০ শব্দ)

উত্তর খুব শীঘ্রই দেওয়া হবে ।


নবম শ্রেণী ৬ষ্ঠ সপ্তাহের আইসিটি এসাইনমেন্ট উত্তর


তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) এসাইনমেন্ট

প্রশ্নঃ

বর্তমানে কোভিড-১৯ উদ্ভূত পরিস্থিতিতে শিক্ষা। কার্যক্রম চলমান রাখায় ই-লার্নিং এর ভূমিকা’বিষয়ক ২৫০ শব্দের মধ্যে একটি প্রতিবেদন তৈরি কর।


উত্তর


বর্তমান কোভিড-১৯ বা করনা  উদ্ভূত পরিস্থিতিতে শিক্ষা কার্যক্রম চলমান রাখায় ই-লার্নিং এর ভূমিকা। 


বর্তমান  আমাদের আধুনিক বিশ্বায়নের যুগে তথ্যপ্রযুক্তি ভূমিকা অনস্বীকার্য এবং গুরুত্বপূর্ণ । বর্তমানে  বিশ্বের দিকে তাকালেই বুঝা যায় , যে আধুনিক তথ্য ও যােগাযােগ প্রযুক্তি কতটা  আমাদের জীবনে গভীরভাবে জড়িয়ে আছে।

 আমরা আজকের এই  যে সভ্যতা সামনে দাড়িয়ে আছি তার অনেকটাই সার্থক হয়েছে তথ্য ও যােগাযােগ প্রযুক্তির উন্নয়নের  কারনে।তাই  বর্তমান সময়ে তথ্য ও প্রযুক্তির ব্যবহার এতটাই বৃদ্ধি পেয়েছে যে,সকল  শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এর ছােয়া লেগেছে। যােগাযােগের আধুনিকায়ন এবং ইন্টারনেটের  উন্নতির ফলে শুরু হয়েছে ই-লার্নিং।

 ই-লার্নিং হল ইলেকট্রনিক লার্নিং।যার অর্থাৎ ইন্টারনেট ব্যবহার করে কিংবা ব্যক্তিগত নেটওয়ার্ক, টেলিভিশন সিডিরম, রেডিও, ভিডিও ইত্যাদির মাধ্যমে শিক্ষা প্রদান করাই হল ই- লার্নিং। ই-লার্নিং হলাে একটি আধুনিক পদ্ধতিতে পাঠদানের প্রক্রিয়া যা তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির মাধ্যমে করা হয়।

করােনা কালে স্বাভাবিক ভাবে বিভিন্ন  শ্রেণীর শিক্ষা  কার্যক্রম চালু না রাখার যৌক্তিকতা আছে । কারন উন্নত দেশগুলাে যেখানে করােনার থাবায় কোণঠাসা  হয়ে আছে, সেখানে আমাদের জনবহুল দেশ অনেকটাই বিপদের সম্মুখে । যদি শ্রেণীর শিক্ষা কার্যক্রম চালু রাখা হতাে তাহলে দেশের বর্তমান করােনা পরিস্থির চিত্র আরও ভয়াবহ। 


আজকের শিক্ষার্থীরাই আমাদের আগামী দিনের  ভবিষ্যৎ। আজকের শিক্ষার্থীরাই সারা বিশ্বকে দেখিয়ে দিবে আমারা তথ্য ও যােগাযােগ প্রযুক্তিতে কতােটা  উন্নত। কোমলমতি শিক্ষার্থীদের কথা বিবেচনা করে  সকল শ্রেণীর  কার্যক্রম চালু না রাখার সিদ্ধান্ত খুবই  যৌক্তিকসম্পন্ন এবং যুগােপযুগী। তাছাড়া ই-লার্নিং এর মাধ্যমে ঘরে বসেই পাঠদানের সুযােগ যেখানে আছে সেখানে শ্রেণীর  কার্যক্রম চালু রাখা মানে হল তথ্য ও প্রযুক্তিকে নিরাশ করা। তাছাড়া সবার আগে জীবন, জীবিত থাকলে শিক্ষা হবে, প্রতিষ্ঠিত হওয়া যাবে একদিন ।


শিক্ষাই পারে একটি  দেশকে, একটি জাতিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে, সেখানে শিক্ষাব্যবস্থাই আজ বিপাকে। যদিও অনলাইন শিক্ষার মাধ্যমে শিক্ষাদান কার্যক্রম চলছে তবুও এটি কতটা ফলপ্রসূ হবে তা নিয়ে সকলের কাছেই প্রশ্ন আছে । গত দুই বছর  ধরে দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলাে বন্ধ থাকায় অনলাইনের মাধ্যমে শিক্ষাদানের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।


 অনিশ্চিত এই পরিস্থিতিতে অনলাইন কার্যক্রম চালিয়ে নিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ সরকার ও ইউজিসি। এরিমধ্যে অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হয়ে গেছে। শিক্ষার্থীরা পরিচিত হচ্ছে নতুন এক অধ্যায়ের সাথে প্র্যাকটিকেল ক্লাস, পরীক্ষা, গতানুগতিক শিক্ষা থেকে দূরে থেকে নতুন শিক্ষাধারায় সম্পৃক্ততায় শিক্ষার্থীরা কতটুকু উপকৃত হচ্ছে তা নিয়ে মতভেদ আছে  অনেকেরই মনে।


 অনলাইন ক্লাস শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের কাছে নতুন বিষয় যা বৈশ্বিক মহামারির কারণে সকলের কাছে  একটি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। মূলত শিক্ষার্থীদের অনলাইন টিউটোরিয়াল বা জুম মিটিংয়ের মাধ্যমে ক্লাস নেওয়ার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। তাছাড়া টিভি চ্যানেলের মাধ্যমে ও নিয়মিত প্রাথমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের জন্য অনলাইন ক্লাসের ব্যবস্থা করা হয়েছে । 

তবে এই অনলাইন ক্লাসের পাঠদান গ্রহণের ক্ষেত্রেও অনীহা রয়েছে আমাদের  অনেকে মাঝে। অনলাইন ক্লাসের মূলত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলাে শিক্ষাব্যবস্থা যেন এই মহামারিতে মুখ থুবড়ে  পড়ে না যায় - যা একটি  দেশের জন্য অতি জরুরি।


আমার স্কুলে করােনা মহামারির কারণে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হওয়ার কিছুদিন পরেই, অনলাইনে ক্লাস শুরু হয়ে গেছে।  জুম অ্যাপসের মাধ্যমে শিক্ষকরা  তাদের ক্লাস নেন। আমাদের বাড়ির কাজ দেন বা home work দেন । আবার পরের ক্লাসে পড়া ধরেন। জুম অ্যাপসের মাধ্যমে আমরা শিক্ষকদের পড়া  যদি  কিছু না বুঝি  তখন  সরাসরি প্রশ্ন করতে পারি।

 শিক্ষকরাও আমাদের প্রশ্ন উত্তর দেন এবং  বুঝিয়ে দেন। তাছাড়াও আমাদের পরীক্ষা নেওয়া হয়। ফেইসবুক গ্রুপের মাধ্যমে আমরা প্রশ্ন পেয়ে আমাদের খাতায় উত্তর লিখে  এবং ছবি তুলে গ্রুপে জমা দেই। এভাবেই আমার স্কুলে অনলাইন  মাধ্যমে কার্যক্রম করে আসছি।


আধুনিক প্রযুক্তি যে শুধু জীবন যাত্রার মানকেই যে  উন্নত করছে তা কিন্তু নয়। সেই সাথে মানুষের দক্ষতাকেও  করছে উন্নত। যেমন:


ই-লার্নিং এর মাধ্যমে যে কেউ খুব কম সময়ে তথ্য ও প্রযুক্তি ব্যবহারে দক্ষতা অর্জন করতে পারে।

 বিশ্ববিদ্যালয়ের ভার্চুয়াল ক্লাসে অংশ নিয়ে করে এবং  নিজের পছন্দের বিষয়ের উপর দক্ষতা অর্জন করতে পারে।

নিজের সীমিত জ্ঞানের পরিধিকেই  ই- লার্নিং এর মাধ্যমে আরাে বিস্তৃত করে তুলে ।

একজন শিক্ষার্থী প্রাতিষ্ঠানিক জ্ঞান লাভের পাশাপাশি এবং  অন্যান্য বিষয়ের  প্রতি জ্ঞান লাভ করে। নিজেদের  যেমন আরও দক্ষ করে তুলতে পারে।

শিক্ষার আলােকে সর্বত্র ছড়িয়ে দিতে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান যেমন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ঠিক সেই একি সমপরিমাণ ভূমিকা রাখে ই-লার্নিং। যেখানে আধুনিক তথ্য  প্রযুক্তি সর্বস্তরে বিরাজ করছে। সেখানে শিক্ষাকে ডিজিটালাইজেশনে রূপান্তর করতে ই-লার্নিং এর আরাে প্রসার বৃদ্ধি করা প্রয়য়ােজন বলে মনে করি।  


আবার ইলার্নিং এর মাধ্যমে একজন ব্যক্তি নিজেকে বিভিন্ন বিষয়ে দক্ষ করে গড়ে তুলতে পারে তাছাড়া ও ই-লার্নিং এর মাধ্যমে যে কেউ চাইলে, সেই দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে যেমন অর্থ উপার্জন করতে পারে, ঠিক তেমনি বিদেশ থেকে উচ্চতর ডিগ্রি অর্জন করতে পারে। তাই ই-লার্নিং কে গুরুত্ব দিয়ে আমাদের দেশের তথ্য ও যােগাযােগ প্রযুক্তিকে আরাে উন্নত করা আবশ্যই  প্রয়ােজন।




নবস শ্রেণী ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা এসাইনমেন্ট সমাধান 


বিশ্বসভ্যতার অগ্রগতি সাধনে মিশরীয় ও সিন্ধুসভ্যতার অবদান সংক্রান্ত তথ্য ও ছবি সংগ্রহ করে উভয় সভ্যতার আর্থ-সামাজিক অবস্থার উপর একটি প্রতিবেদন তৈরি কর। (৩০০ শব্দ)


উত্তর: 


 বিশ্বসভ্যতার অগ্রগতি সাধনে সবচেয়ে বেশি  মিশরীয় সভ্যতার অবদান।


আফ্রিকা মহাদেশের উত্তর পূর্ব অংশে বর্তমানে, যে দেশটির নাম ইজিপ্ট সেই দেশেরই প্রাচীন নাম  হলো মিশর। খ্রিষ্টপূর্ব ৫০০০ থেকে ৩২০০ অব্দ পর্যন্ত নীল নদের অববাহিকায় একটি সমৃদ্ধ জনপদেও উদ্ভব ঘটে   যার হলো একটি  প্রাচীন মিশর। সভ্যতায় বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে মিশরীয়রা ।

 তিনটি মহাদেশ দ্বারা ঘিরে থাকা মিশরের ভৌগলিক অবস্থান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দেশটি এশিয়া, আফ্রিকা ও ইউরােপ মহাদেশ দ্বারা পরিবেষ্টিত এবং  ভূমধ্যসাগরের উপকূলে অবস্থিত।এর উত্তরে আছে ভূমধ্যসাগর, পূর্বে আছে  লােহিত সাগর,  এবং পশ্চিমে  আছে সাহারা মরুভূমি, দক্ষিনে সুদান ও আফ্রিকার অন্যান্য দেশ।


সভ্যতায় মিশরীয়দের অবদান:


 প্রাচীন সভ্যতায় মিশরীয়দের অবদান অস্বীকার।  ধর্মায়,  চিন্তা, শিল্প, ভাস্কর্য, লিখন পদ্ধতি, কাগজের আবিষ্কার, জ্ঞান বিজ্ঞানচর্চা সবকিছুই মিশরীয়দের  অবদানে সমৃদ্ধ। মিশরীয়দের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হচ্ছে , তাদের জীবন ধর্মীয় চিন্তা ও বিশ্বাস দ্বারা প্রভাবিত। 

সভ্যতায় মিশরীয়দের অবদানের কয়েকটি উল্লেখযােগ্য বিষয় :


# শিল্প : 

মিশরীয়দের চিত্রকলা বৈচিত্র্যপূর্ণ ও ঐতিহাসিক দিক থেকে গুরত্বপূর্ণ। অন্যান্য  দেশের মতাে এতো  চিত্রশিল্পও গড়ে উঠেছিল শুধুমাত্র  ধর্মীয় বিশ্বাস থেকে। তারা সমাধি এবং  মন্দিরের দেয়াল সাজাতে গিয়ে চিত্রশিল্পের সূচনা করে। তাদের প্রিয় রং ছিল সাদা-কালাে । সমাধি, পিরামিড, মন্দির, প্রাসাদ, প্রমােদ কানন, সাধারণ ঘর-বাড়ির দেয়ালেই ছিলো  মিশরীয় চিত্রশিল্পীরা অসাধারণ ছবি এঁকেছেন। সেসব ছবির মধ্যে সমসাময়িক মিশরের রাজনৈতিক, ধর্মীয়, সামাজিক ও পারিবারিক জীবনের কাহিনি ফুটে উঠেছে।


# লিখনপদ্ধতি ও কাগজ আবিষ্কার : 


মিশরীয় সভ্যতার অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য ছিল লিপি বা অক্ষর আবিষ্কার।  তারা নগর সভ্যতা বিকাশের সঙ্গে সঙ্গে   লিখনপদ্ধতির উদ্ভব ঘটায় । পাঁচ হাজার বছর পূর্বে তারা সর্বপ্রথম ২৪টি ব্যঞ্জনবর্ণের বর্ণমালা আবিষ্কার করে।  তারা প্রথম দিকে ছবি এঁকে তাদের  মনের ভাব প্রকাশ করত। এই লিখন পদ্ধতির নাম ছিল হায়ারোগ্লিফিক বা পবিত্র অক্ষর।


নবম শ্রেণী ৬ষ্ঠ সপ্তাহের এসাইনমেন্ট সমাধান ২০২১
image credit: crystalinks.com

হায়ারোগ্লিফিক



# ভাস্কর্য: 


 ভাস্কর্য শিল্পে মিশরীয়দের মতাে প্রতিভার ছাপ আর  কোন দেশের জাতি বা  অন্য কেউ রাখতে সক্ষম হয়নি। ব্যাপকতা, বৈচিত্র্য এবং ধর্মীয় ভাবধারায় প্রভাবিত বিশাল আকারের পাথরের মূর্তিগুলাে ভাস্কর্য শিল্পে তাদের শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণ বহন করে। প্রতিটি ভাস্কর্য ধর্মীয় ভাবধারা, আচার অনুষ্ঠান, মতাদর্শ দ্বারা প্রভাবিত ছিল। প্রতিটি শিল্পই ছিল আসলে ধর্মীয় শিল্পকলা। সর্বশ্রেষ্ঠ ভাস্কর্য হচ্ছে গিজার অতুলনীয় কিংস। ফিংকস হচ্ছে এমন একটি মূর্তি, যার দেহ সিংহের মতাে, কিন্তু মুখ মানুষের মতাে। তারা সেটাকে তাদেএ শক্তির প্রতিক বলে মনে করতো।  মিশরের সবচেয়ে বড় পিরামিড হচ্ছে ফারাও খুফুর পিরামিড। মন্দিরগুলােতে মিশরীয় ভাস্কর্য স্থাপত্যের অপূর্ব নিদর্শন প্রতিফলিত হয়েছে তা দেখা যায় ।


নবম শ্রেণী ৬ষ্ঠ সপ্তাহের এসাইনমেন্ট সমাধান ২০২১
Image Credit : quatr.us

প্রাচীন মিশরীয় ভাস্কর্য




# মিশরীয়দের আর্থ-সামাজিক অবস্থা:


 পেশার ওপর ভিত্তি করে মিশরীয়দের কয়েকটি শ্রেণিতে ভাগ করা যায়। যেমন- ১/রাজপরিবার, ২/ পুরােহিত, ৩/ অভিজাত, লিপিকার, ব্যবসায়ী, শিল্পী এবং কৃষক ও ভূমিদাস শ্রেণি । মিশরের অর্থনীতি মূলত ছিল কৃষিনির্ভর। উৎপাদিত ফসলের মধ্যে উল্লেখযােগ্য ছিল গম, যব, তুলা, পেঁয়াজ, পিচফল ইত্যাদি। ব্যবসা-বাণিজ্যেও মিশর ছিল অগ্রগামী। মিশরে উৎপাদিত গম, লিনেন কাপড় ও মাটির পাত্র ক্রিট দ্বীপ, ফিনিশিয়া, ফিলিস্তিন ও সিরিয়ায় রপ্তানি হতাে। বিভিন্ন দেশ থেকে মিশরীয়রা স্বর্ণ, রৌপ্য, হাতির দাঁত, কাঠ ইত্যাদি আমদানি  তারা করত।


# মিশরীয়দের অর্থনীতিতে নীলনদের অবদান : 


নীল নদ মিশরের নীল নদের উৎপত্তি আফ্রিকার লেক ভিক্টোরিয়া থেকে। সেখান থেকে নদটি নানা দেশ হয়ে মিশরের মধ্য দিয়ে ভূ-মধ্যসাগরে এসে পড়েছে। ইতিহাসের জনক হেরােডােটাস যথার্থই বলেছেন- “মিশর  হলো নীল নদের দান’। নীল নদ না থাকলে আসলে  মিশর মরুভূমিতে পরিণত হতাে। প্রাচীনকালে প্রতিবছর নীল নদে বন্যা হতাে। সেই  বন্যার পর  পানি সরে গেলে দুই তীরে পলিমাটি জমে তা  জমি উর্বর হতাে। জমে থাকা পলিমাটিতে জন্মাতাে নানা ধরনের ফসল।


# বিশ্বসভ্যতার অগ্রগতি সাধনে সিন্ধু সভ্যতার অবদানঃ


সিন্ধু নদের অববাহিকায় গড়ে উঠেছিল বলে এর নাম রাখা হয় সিন্ধু সভ্যতা। সিন্ধু সভ্যতার সংস্কৃতিকে হরপ্পা সংস্কৃতি বা হরপ্পা সভ্যতা ও বলা হয় । ঐতিহাসিকদের মতে ২৫০০ থেকে ১৫০০ খ্রিষ্টপূর্বাব্দ পর্যন্ত এ সভ্যতা টিকে ছিল। ঐতিহাসিকরা আরাে মনে করেন পাঞ্জাব থেকে আরব সাগর পর্যন্ত বিস্তীর্ণ ভৌগলিক এলাকা জুড়ে সিন্ধু সভ্যতা গড়ে উঠে ছিল।


পৃথিবীর প্রাচীন সভ্যতাগুলাের অন্যতম হল সিন্ধু সভ্যতা।  তাই বিশ্বসভ্যতার অগ্রগতিতে তার অবদান খুবই গুরুত্বপুর্ন। তার অবদানের কয়েকটি দিক হল।


নগর পরিকল্পনা :


  সিন্ধুসভ্যতার এলাকায় যেসব শহর আবিস্কৃত হয়েছে তার মধ্যে হরপ্পা ও মহেঞ্জোদারাে সবচেয়ে  হলো বড় শহর। ঘরবাড়ি সবই পােড়ামাটি বা রােদে পােড়ানাে ইট দিয়ে তৈরি। শহরগুলাের বাড়িঘরের নকশা থেকে সহজেই বােঝা যায় যে, সিন্ধুসভ্যতা যুগের অধিবাসীরা উন্নত নগরকেন্দ্রিক জীবন যাপনে অভ্যস্ত ছিল। হরপ্পা ও মহেঞ্জোদারাের নগর পরিকল্পনা  প্রায় একই রকম ছিল। নগরীর ভেতর দিয়ে চলে গেছে পাকা রাস্তা। রাস্তাগুলাে ছিল সােজা এবং  সুরু । প্রত্যেকটি বাড়িতে খােলা জায়গা, কৃপ ও স্নানাগার ছিল। জল নিষ্কাশনের জন্যে ছােট নর্দমাগুলােকে মূল নর্দমার সাথে সংযুক্ত করা হতাে। রাস্তাঘাট পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা হতাে। পথের ধারে ছিল সারিবদ্ধ ল্যাম্পপােস্ট। এতে করে বুঝা যায় তারা খুব উন্নত জাতি ছিল। 


নবম শ্রেণী ৬ষ্ঠ সপ্তাহের এসাইনমেন্ট সমাধান ২০২১
Image Credit : monomousumi.com

সিন্ধুসভ্যতার নগর পরিকল্পনা


#পরিমাপ পদ্ধতি : 


সিন্ধুসভ্যতা যুগের অধিবাসীরা বিভিন্ন  দ্রব্যের ওজন পরিমাপ করতে শিখেছিল এবং জানত। তাদের এই পরিমাপ পদ্ধতির আবিষ্কার সভ্যতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ অবদান বলে বিবেচিত। তারা বিভিন্ন দ্রব্য ওজনের জন্য নানা মাপের ভিন্ন ভিন্ন আকৃতির বাটখারা ব্যবহার করত। দাগ কাটা স্কেল দিয়ে দৈর্ঘ্য মাপার পদ্ধতিও তাদের জানা ছিল।

স্থাপত্য ও ভাস্কর্য : সিন্ধুসভ্যতা যুগের অধিবাসীরা গুরুত্বপূর্ণ এবং চমৎকার স্থাপত্যশৈলীর নিদর্শন রেখে গেছে। সেখানে দুই কক্ষ থেকে পঁচিশ কক্ষ  সন্ধানও পাওয়া গেছে।


নবম শ্রেণী ৬ষ্ঠ সপ্তাহের এসাইনমেন্ট সমাধান ২০২১
Image Credit : Pinterest

সিন্ধুসভ্যতার পরিমাপ পদ্ধতি



# আর্থ-সামাজিক অবস্থা: 


সিন্ধু সভতার অর্থনীতি ছিল মূলত কৃষি উপর  নির্ভর। এছাড়া অর্থনীতির একটি বড় দিক ছিল পশুপালন, তারা পশুপালন করতে । কৃষি ও পশুপালনের পাশাপাশি মৃৎপাত্র নির্মাণ, ধাতুশিল্প, বয়নশিল্প, অলঙ্কার নির্মাণ, পাথরের কাজ ইত্যাদিতেও তারা যথেষ্ট উন্নতি লাভ করেছিল এবং পারদর্শী ছিল। এই উন্নতমানের শিল্পপণ্য বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে সেখানকার বণিকরা বিদেশের সঙ্গে বাণিজ্যিক যােগাযােগ রক্ষা করে চলতো। বণিকদের সাথে আফগানিস্তান, বেলুচিস্তান, মধ্য এশিয়া, পারস্য, মেসােপটেমিয়া, দক্ষিণ ভারত, রাজপুতনা, গুজরাট প্রভৃতি দেশের সঙ্গে বাণিজ্যিক যােগাযােগ ছিল।


উপরোক্ত  আলোচনা  থেকে আমরা বলতে পারি,  আজ আমরা যে আধুনিক বিশ্ব দেখি তা একদিনে নির্মিত হয়নি তা বহু যুগ থেকে বহু জাতির উন্নতির ফলে হয়েছে । আমাদের পূর্বে বহু জাতি বহু সভ্যতা তিল তিল করে এই মানব সভ্যতাকে এগিয়ে দিয়েছে । তার ধারাবাহিকতায় আজ আমরা পেয়েছি আধুনিক বিশ্ব। তাই বিশ্বসভ্যতায় প্রাচীন সভ্যতার গুরুত্ব অপরিসীম।


Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url