কিভাবে দ্রুত পড়া শিখবেন এবং পড়া মুখস্থ করার অসাধারণ কিছু পরিক্ষিত কৌশল। EducationHacks BD
প্রিয় বন্ধুরা আজ আমরা একটা গুরুত্বপূর্ণ কমন সমস্যা নিয়ে আলোচনা করবো। আমাদের মধ্যে অনেকেই আছে যে বলে এতো পরিশ্রম করি এতো পড়ি তারপর ও মনে থাকেনা। এই নিয়ে অনেকেই খুব টেনশনে থাকে। আজ আমরা সেই সমস্যা থেকে উত্তরনের উপায় সম্পর্কে বিস্তারিত জানবো।
মস্তিষ্ক সম্পর্কে যে বিষয় গুলো জানা আমাদের দরকার।
আমাদের স্বৃতিশক্তি থাকে হলো আমাদের মস্তিষ্কের ভিতরে। আমাদের মস্তিষ্কের দিক রয়েছে দুটি । একটি সেন্ট্রাল নার্ভাস সিস্টেম, অন্যটি পেরিফেরাল নার্ভাস সিস্টেম। সেন্ট্রাল নার্ভাস সিস্টেমের মধ্যে আবার অনেক গুলো ভাগ রয়েছে। এর সঙ্গে রয়েছে নানা রকম কাজ। তার একটি হলো মেমোরি বা স্মৃতিশক্তি। পৃথিবীতে যারা জন্মগ্রহন করেছে তাদের কেউই বেশি আইকিউ / স্মৃতিশক্তি নিয়ে জন্মগ্রহণ করে না।তবে কিছু ব্যাক্তি আছে যাদের কে আল্লাহ প্রদত্ত এমন জ্ঞান দিছেন যে একবার পড়লে সারাজীবন আর পড়তে হয়না।
এটা ব্যতিক্রম। তবে যাদের আইকিউ বেশি তাদের ব্যবহারিক দৈনন্দিন আচরণের ওপর নির্ভর করে তাদের বুদ্ধিমত্তা বা আইকিউ। যত শ্রম বা চর্চা করা যাবে, আইকিউ ততই বাড়বে। সাধারণত মানুষের আইকিউ ৯০ থেকে ১১০। তবে কারো কারো আইকিউ ১১০-এর ওপরে হতে পারে।চর্চা যত বেশি হবে তাদের আইকিউ ও তত বাড়বে।
পৃথিবীতে শতশত এমন ব্যক্তি রযেছে যাদের আইকিউ ১১০ এর উপরে।
এ আইকিউ বৃদ্ধির জন্য চর্চাই হল একমাত্র মাধ্যম । চর্চা আর পরিশ্রম এর মাধ্যমেই একজন দূর্বল স্মৃতিশক্তি ছাত্র সাধারন থেকে মেধাবী হয়ে উঠতে পারে।
মনে রাখতে না পারার এই সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে কিছু কৌশল অবলম্বন করা যেতে পারে।
১. আত্মবিশ্বাস
আত্মবিশ্বাসই হল সফলতার প্রথম ধাপ।: যেকোনো কাজে সফল হওয়ার প্রধান ও প্রথম শর্ত হলো আত্মবিশ্বাস।
যে কোন কিছু শিখতে বা অর্জন করতে ওই বিষয়ের প্রতি আত্নবিশ্বাস থাকতে হবে যে আমিই পারবো। আমার ধারা ও সম্ভব। পড়াশোনা কে কঠিন মনে করা যাবেনা। নিজের মনকে বুঝাতে হবে যে সবাই পাড়ে আমাকে ও পাড়তে হবে। কঠিন পড়া গুলো কে সহজ করে পড়তে হবে নিজের মত করে। তাহলেই মনে থাকবে।
কোন বিষয় মুখস্থ করার জন্য আগে বিষয় টি ভাল করে বুঝতে হবে তারপর কয়েকবার দেখেদেখে পড়তে হবে। নিজের মাথায় ঢুকাতে হবে যে মূল বিষয়টি কি। তাহলে খুব সহজেই পড়া মনে থাকবে।
২. নির্দিষ্ট সময় বের করা।
লেখাপড়ার জন্য কোন সময় সেট করতে হবে। যে, কোন সময় পড়লে তার মনে থাকে বেশি। একেকজনের কাছে একেক রকম। কেউ সারাদিন না পড়ে রাত জেগে পড়াশোনা করে,আবার সকালে পড়লে মনে থাকে। আপনাকে বেচে নিতে হবে যে কোন সময় আপনার পড়তে ভাল লাগে পড়া মনে থাকে।
তবে পড়া মনে রাখার জন্য সব থেকে উত্তম সময় হচ্ছে সকাল বেলা। ঘুমের পর সকাল বেলা মানুষের মস্তিষ্ক অনেক সচল থাকে তখন আজে বাজে চিন্তা মাথায় থাকেনা। মন এবং মস্তিষ্ক একদম ফ্রেশ থাকে। তাই ওই সময় অল্প পড়েই মনা রাখা যায়।
৩. চোখ দিয়ে ভাল করে দেখে পড়তে হবে
মনে রাখার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল যে কোন কিছু পড়ার সময় বিষয়টি মন দিয়ে দেখে খেয়াল করে পড়তে হবে। আমাদের মস্তিষ্ক সবথেকে সহজে মনে রাখতে পারে চোখে দেখা বিষয় গুলো। কেননা যে কোন কিছু জিজ্ঞাস করা হলে সর্ব প্রথম ওই জিনিসের প্রতিচ্ছবি আমাদের চোখে ভাসে, ফলে সহজে বলা যায়।
৪. অল্প অল্প করে মনোযোগ দিয়ে পড়তে হবে
যে কোন কিছু মনে রাখতে হলে ওই বিষয় টা কয়েকটি অংশে ভাগ করে ছোট করে নিবো এভাবে পড়া বেশ উপকারী। যেমন ৭৮৬৯৩০-কে এভাবে একসাথে মনে রাখা যতটা সহজ মনে হবে তার চাইতে ৭৮৬ও ৯৩০ এই দুই ভাগে ভাগ করে সংখ্যাটা মনে রাখা বেশি সহজ।
আমরা বইয়ের অনেক বড় বড় সংজ্ঞা রয়েছে যা আমাদের পড়তে ভয় হয়, সহজে মনে থাকে না । কিন্তু বড় সংজ্ঞাকে যদি নিজের মত করে কয়েকভাগে ভাগ করে নেই তাহলে দেখবেন পড়লেই তা সহজেই মনে থাকছে।
৫. নতুন বিষয়কে পুরনো বিষয়ের সাথে সাদৃশ্য খুঁজতে হবে
পড়ার সময় যখন নতুন কোন বিষয় আসবে তখন এই বিষয়ের সাথে সাদৃশ্য এমন বিষয় আগে পড়ে থাকলে, তার সাথে তুলনা করে পড়তে হবে।
৬. লিখে লিখে পড়ার অভ্যাস করতে হবে
৭. পর্যাপ্ত ঘুমাতে হবে
পড়ালেখার পাশাপাশি পর্যাপ্ত ঘুমাতে হবে।
সারাদিন কাজ কাম, পড়াশুনার কারনে আমাদের মস্তিষ্ক দূর্বল হয়ে যায়। তাই ঘুমালে আমাদের মস্তিষ্কের দূর্বলতা কাটে।
৮. বার বার পড়তে হবে
৯. জোরে জোরে পড়ুন
পড়ার সময় একটু আওয়াজে পড়ুন। এতটুকু জোরে পড়ুন যে আপনার পড়া আপনার কান যেন শুনতে পায়। জোরে পড়লে মাথায় ওই বিষয়টা দ্রুত ঢুকে যায়।
১০. টার্গেট নিয়ে পড়ুন।
পড়ার সময় এটা টার্গেট নিয়ে পড়তে বসুন।
১১. নিজের শিক্ষক নিজেই হোন।
১২. কনসেপ্ট চার্ট
১৩. কিওয়ার্ড বা টেকনিক অবলম্বন করুন
বিষয়টি বুঝার জন্য একট গল্প বলছি।
প্রিয় আসুবিনি,
অজ কুপাতি ভরসা অনা আড় আবঃ কদ-আন-ঊন অসহা ।
ইতি,
মফিজ।
মানে হল— আজ কুপতি (খারাপ পতি/স্বামী) ভরসাহীন (মা ছাড়া ছেলেকে নিয়ে কোনো ভরসা খুঁজে পাচ্আছেনা) আর/এবং আব্দুল কদানুন অসহায় ।
চিঠিটা মনযোগ দিয়ে কয়েকবার রিভিশন দেন তো । তারপর দেখুন কত সহজে গড়গড় করে ২১ টি খাটিঁ বাংলা উপসর্গ — আ, সু, বি, নি, অজ, কু, পাতি, ভর, সা, অনা, আড়, আব, কদ, আন, ঊন, অ, স, হা, ইতি, অঘা, রাম চোখ বন্ধ করে বলে ফেলা যায় । ঘণ্টার পর ঘণ্টা শ্রম ঘাম দিয়ে যে পাঠ মস্তিষ্ককে আটকাতে পারলেননা; তা অল্প সময়েই শিখে গেলেন কত সহজে।
এমনিভাবে ত্রিকোণমিতির সূত্র মনে রাখতে ‘সাগরে লবণ আছে, কবরে ভূত আছে, ট্যারা লম্বা ভূত’ ছড়াটি মনে রাখা যেতে পারে। এর অর্থ দাঁড়ায়, সাইন=লম্ব/অতিভুজ (সাগরে লবণ আছে), কস=ভূমি/অতিভুজ (কবরে ভূত আছে), ট্যান=লম্ব/ভূমি (ট্যারা লম্বা ভূত)।
১৪. কল্পনায় ছবি আঁকা।
১৫. মুখস্থ বিদ্যাকে ‘না’ বলা

ভালো
ধন্যবাদ
অনেক ধন্যবাদ
Helpfull❤️❤️
ভাল