এইচএসসি ২য় সপ্তাহের পৌরনীতি এসাইনমেন্ট সমাধান ২০২১-২২

 

এইচএসসি পৌরনীতি ও সুশাসন এসাইনমেন্ট সমাধান ২০২১

এইচএসসি ২য় সপ্তাহের পৌরনীতি ও সুশাসন  এ্যাসাইনমেন্ট প্রশ্ন ও উত্তর ২০২১-২২। এইচএসসি ২য় সপ্তাহের পৌরনীতি ও সুশাসন  এসাইনমেন্ট এর প্রশ্ন মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাওশি) এর ওয়েবসাইট dshe.gov.bd -এ প্রকাশিত করা হয়েছে।


বর্তমানে সারাবিশ্বে করোনার এই মহামারির কারনে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার মত উপযুক্ত পরিবেশ এখনো তৈরী না হওয়ার কারণে করোনার সংক্রমণ রোধে এখনও সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা হয়েছে। যার জন্য  পড়াশোনায় শিক্ষার্থীরা অনেক পিছিয়ে যাচ্ছে। কেউ বা পড়াশোনা ছেড়ে দিয়ে অনৈতিক কাজে জড়িয়ে পড়ছে। তাই সকলকে পড়াশোনার প্রতি মনোযোগী রাখতে সকল ক্লাসেই এখন এ্যাসাইনমেন্ট এর ব্যবস্থা করা হয়েছে।


এইচএসসি এসাইনমেন্ট সমাধান ২০২১

উচ্চ মাধ্যমিক শ্রেণী হচ্ছে সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ শ্রেণী। জীবনের একটা টার্নিং পয়েন্ট শুরু হয় এই ক্লাস থেকেই। বিশ্বব্যাপি এই বয়াবহ মহামারির জন্য
এইচএসসি পরিক্ষার্থীরা নিয়মিত ক্লাস করতে পারে নাই।

তাদের সিলেবাস সম্পূর্ণ বাকি রয়ে যায়। তাই শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে নির্ধারিত সংক্ষিপ্ত  সিলেবাস শেষ করার লক্ষে সংক্ষিপ্ত সিলেবাস অনুযায়ী  নির্ধারিত কাজ বা এ্যাসাইনমেন্ট এর ব্যবস্থা করা হয়েছে।

এইচএসসি ২য় সপ্তাহের এ্যাসাইনমেন্ট

২০২২ সালের এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের জন্য ২য় সপ্তাহের এসাইনমেন্ট মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তর এর ওয়েবসাইটে dshe.gov.bd তে প্রকাশিত হয়েছে।২য় সপ্তাহে এ্যাসাইনমেন্ট দেওয়া হয়েছে মোট ০৬টি বিষয়ের উপর। বিষয়গুলো হলো:

  • ইংরেজি ১ম পত্র
  • পদার্থ বিজ্ঞান ২য় পত্র
  • যুক্তিবিদ্যা ২য় পত্র
  • হিসাব বিজ্ঞান ২য় পত্র


এইচএসসি পৌরনীতি ও সুশাসন এসাইনমেন্ট সমাধান ২০২১

পৌরনীতি ও সুশাসন বিষয়ের ২য় সপ্তাহের এসাইনমেন্ট  এর টপিক নেওয়া হয়েছে পাঠ্য বইয়ের ২য় পত্র থেকে। এইচএসসি পৌরনীতি এসাইনমেন্ট নিচে দেওয়া হলো।


পৌরনীতি ও সুশাসন প্রশ্ন


এইচএসসি পৌরনীতি ও সুশাসন এসাইনমেন্ট সমাধান ২০২১


এইচএসসি পৌরনীতি ও সুশাসন এসাইনমেন্ট উত্তরঃ


সূচনা :


 ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের একটি  ইতিহাসে  যা বঙ্গভঙ্গ এক  অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ স্থান  দখল করে আছে। ১৭৫৭ খ্রিস্টাব্দের ২৩ শে  জুন, ভগিরতি নদীর তীরে পলাশীর আম বাগানে বাংলা ,বিহার ও উড়িষ্যার শেষ স্বাধীন নবাব সিরাদ্দৌলার পরাজযের মাধ্যমে এই  ভারতীয় মহাদেশে ইংরেজদের শাষনের গােড়াপত্তন ঘটে । যা  তৎকালীন বাংলা , বিহার , উড়িষ্যা , আসাম ও আরাে কিছু অঞ্চল নিয়ে গঠিত হয়ে ছিলো  বাংলার  প্রেসিডেন্সি ।


যা  আয়তন বিশাল হওয়ার কারনে পুরাে বাংলা প্রেসিডেন্সিকে একসাথে শাষন করা সরকারের বা  লর্ড   কার্জনের পক্ষে শাসন করা ছিলো  অসম্ভব  ৷ ১৯০৩ সালে লর্ড কার্জন ( যার নামে বর্তমান এখন  ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্জন হল ) আর  এ  অঞ্চলের বড় লাট সাহেব হয়ে আসলে তিনি বাংলাকে  ভাগ করার সিদ্ধান্ত নেন । তাই তিলি  ১৯০৫  সালে বঙ্গভঙ্গ কার্যকর করেন।তাই  পহেলা সেপ্টেম্বর বঙ্গভঙ্গ করে রাজশাহী , ঢাকা , চট্রগাম ও আসামকে নিয়ে গঠিত করেন পূর্ব বঙ্গ যার রাজধানী হয় ঢাকা।  আর এই  সময় লর্ড কার্জন বঙ্গভঙ্গের পক্ষে  ঢাকার নওয়াব সলিমুল্লাহ সহ অনেক মুসলিম  মানুষ  তাতে সমর্থন জানায়। যদিও হিন্দুরা এর  পক্ষে  বিরােধিতা জানিয়ে ছিলো।


 বঙ্গভঙ্গের কারণ 


 আসলে বঙ্গভঙ্গের প্রধান যে কারণ ছিলো যে, বাংলা প্রেসিডেন্সির আয়তন  অনেক হওয়ার কারনে ব্রিটিশরা এদেশেকে শাসন  করছিলো তাই আমাদের তারা  বেশি সুবিধা করতে পারছে না । অপরদিকে ১৯৮৫ খ্রিস্টাব্দে জন্ম নেওয়া ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল কংগ্রেসের ( আই.এন.সি ) ব্রিটিশ বিরােধী বিভিন্ন কার্যকলাপকে থামিয়ে দিতে বাংলাকে ভাগ  করার প্রয়ােজন মনে করেন । তার পরে ও বঙ্গভঙ্গের পেছনে আরাে অনেক কারন জড়িয়ে  আছে যা নিচে উল্লেখ করা হল .


১/ প্রশাসনিক কারণ: 


রাষ্ট্রবিজ্ঞানিগণ  তারা মনে করেন  যে বঙ্গভঙ্গের প্রধান কারণ হল প্রশাসনিক কার । বাংলার প্রসিডেন্টি ছিল বিশাল  প্রদেশ যার আয়তন ছিল ১ লক্ষ ৮৯ হাজার বর্গমাইল ।  যার ফলে শাসনভার  ছিল  তার একার কাছে কষ্টসাধ্য । তাই  লর্ড কার্জন প্রথম থেকেই একে প্রশাসনিক সংস্কার নামে অভিহিত করেন । 



 

২/  কংগ্রেসকে দুর্বল করা: 


১৮৮৫ সালে ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল কংগ্রেস প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে ভারতীয় জনগনের সচেতনতা অনেক  বৃদ্ধি পায় । শুরু থেকেই ব্রিটিস বিরােধীভাবাপন্ন হলেও বঙ্গভঙ্গ যখন  প্রস্তাব হয় কংগ্রেস তখন  থেকেই এর পক্ষে  বিরােধিতা করেন ।


কার্জন বিশ্বাস করতাে কলকাতায় কিছু ষড়যন্ত্রকারী আমার বক্তব্য কংগ্রেসে চালাতাে। তাই  কলকাতার গুরুত্ব হ্রাস করে বঙ্গভঙ্গ কার্যকর করলে । ষড়যন্ত্রকারীরা সে সুযােগ আর পাবে না । তারা ক্রমেই দুর্বল হয়ে পড়বে  তারা।


৩/ অর্থনৈতিক বৈষম্য দূরীকরণ :


 আবার  ব্রিটিশ সরকারের যতাে উন্নয়ন সব কিছু  হতাে ভারতের রাজধানীকে কেন্দ্রীক ।  যার কারনে পূর্ব বংলার জনগণ  সব ক্ষেত্রে অবহেলিত হতাে । যেহেতু এই  অঞ্চলের  বেশিরভাগ মানুষ মুসলিম  ছিল।  তাই মুসলিমরা হিন্দুদের তুলনায় সুযােগ সুবিধা কম পেত ।

তাই দুই বাংলার মানুষ বিশেষকরে মুসলিমরা  যাতে তাদের প্রয়ােজনীয় সুযােগ, সুবিধা পায় সেজন্যই মূলত  এই বঙ্গভঙ্গের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়ে ছিলো।  


৪/ সরকারি চাকরিতে সমস্য: 


সেই সময়ে  হিন্দুদের মধ্যেই সবচেয়ে বেশি সরকারি চাকরির সুবিধা পেত ।  তাই এক্ষেত্রে মুসলিমরা ছিল পিছিয়ে । তারা তেমন সুযোগ, সুবিধা  পেত না।  তাই মুসলিমরা যাতে সমানভাবে সরকারি চাকরি করতে পারে এই  জন্য বঙ্গভঙ্গের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় ।


তাই  বঙ্গভঙ্গের ফলে মুসলিমরাই সবচেয়ে বেশি লাভবান  হয় । ঢাকার নওয়াব সলিমুল্লাহ সহ প্রায় সব মুসলিম নেতাগণ বঙ্গভঙ্গের পক্ষে সমর্থন জানিয়েছিল ৷ 


৫/৷ পাটের ন্যায্য মূল্য প্রাপ্য : 


পূর্ব বাংলায় পাট উৎপাদন হতাে  অনেক বেশি ,  তবে পাটকল ছিল না ।  আর পাটকল ছিল কলকাতায় ও হুগলিতে । এ জন্য পূর্ববাংলার জনগণ পাটের উপযুক্ত মূল্য পেতেন  না । এই  জন্য পূর্ব বাংলার মানুষ  বঙ্গভঙ্গের পক্ষে ছিল । আর পাটের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করতেই বঙ্গভঙ্গ করা হয়েছিল । 


বঙ্গভঙ্গের ফলাফলঃ 


বঙ্গভঙ্গ যেই  লক্ষ্যে বা কারনে  করা হয় তার পুরােপুরি বাস্তবায়তি হয় নি আবার তা  হতে দেইনি তৎকালীন হিন্দু শ্রেণি বা হিন্দু নেত্রীবর্গ। বঙ্গভঙ্গ আন্দোলনের শুরুতে এর বিরুদ্ধে হিন্দু জাতীয়তাবাদী নেতৃবৃন্দ , বাংলা পত্রপত্রিকা , ভারত ও ইংল্যান্ডের ইংরেজি পত্রিকাগুলাে প্রতিবাদ করে |


ঢাকার নবাব সলিমুল্লাহকে ইংরেজরা স্বপক্ষে আনতে সক্ষম হলেও , বাংলার সমগ্র  মুসলমান  মানুষকে  সমাজে আনতে পারে নাই । ১৯০৫ সালের জুলাই মাসের ভিতরে এই আন্দোলনে স্থানীয় জমিদার এবং সাধারণ প্রজাদের সাথে চরমপন্থী দলগুলােও শরিক হয়ে উঠে । ১৯০৫ সালের ১৭ ই জুলাই খুলনাতে এই আইনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ স্বরূপ ব্রিটিশ পণ্য বয়কটের প্রস্তাব গৃহীত হয় । আস্তে আস্তে  এই আন্দোলন ব্রিটিশ – বিরােধী জাতীয়তাবাদী আন্দোলনে রূপ নেয়। এই সময় ভারতের অন্যান্য প্রদেশে এর প্রভাব ছড়িয়ে পড়তে থাকে  । এক্ষেত্রে ব্রিটিশ বিভেদ নীতি দিয়ে মুসলমানদেরকে এই আন্দোলন থেকে সরিয়ে রাখার চেষ্টা করে।   তবে  ব্রিটিশরা  এতে ব্যর্থ হয় । 


১৯০৫ খ্রিষ্টাব্দের ২৩ সেপ্টেম্বর কলকাতার রাজাবাজারে মুসলমানদের এক বিরাট সভায়, এই আন্দোলনের পূর্ণ সমর্থন জ্ঞাপন করে । ক্রমান্বয়ে এই আন্দোলন তীব্রতর হয়ে উঠলে ব্রিটিশ সরকার কার্লাইল সার্কুলার জারি করে ছাত্রদের সভাসমিতি হরতাল নিষিদ্ধ করা হয় । এর প্রতিবাদে বাংলার যুবসমাজ নভেম্বর মাসে এ্যান্টি – কার্লাইল সার্কুলার সােসাইটি গঠন করে ।  ১৯০৫ সালে বঙ্গভঙ্গ করা হয় ।  আর তাই  অবশেষে ১৯১১ খ্রিস্টব্দে বঙ্গভঙ্গ রদ করা হয়।



মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠার প্রেক্ষাপট ও গুরুত্ব 


মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠাঃ


১৮৮৫ সালে জাতীয় কংগ্রেস প্রতিষ্ঠিত হলেও  তাতে মুসলমানদের স্বার্থ সংরক্ষণ করা হয়  নি।  তাই মুসলমানদের অধিকাংশ নেতাই কংগ্রেসে  পক্ষে যােগদান থেকে বিরত থেকে। বিভিন্ন সভা – সমিতি গঠনে উদ্যোগী ভূমিকা পালন করে ।  তাই তারা বিভিন্ন সভা – সমিতির মাধ্যমে মুসলমানদেরকে সচেতন করতে থাকে   এবং ইংরেজি শিক্ষার দিকে মুসলমানদেরকে অগ্রসর হতে  সাহায্য করে।


বঙ্গভঙ্গ রদে যখন কংগ্রেস নেতারা সােচ্চার , তখনই ১৯০৬ সালের সেপ্টেম্বরে লাঞ্চিত মুসলমান নেতৃবৃন্দ স্যার আবদুর রহিমের নেতৃত্বে দাবি দাওয়ার খসড়া স্মারকলিপি তৈরি করেন । ৩৫ সদস্যের মুসলিম প্রতিনিধি দলের সঙ্গে আগা খানের নেতৃত্বে লর্ড মিন্টোর সিমলা ডেপুটেশন হয় । ডেপুটেশনের দাবিদাওয়া লর্ড মিন্টো বিবেচনার আশ্বাস প্রদান করলেও বিশ্ববিদ্যালয় , সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় অংশগ্রহণ এবং হাইকোর্টগুলােতে নিয়ােগ ইত্যাদি বিষয়ে লর্ড মিন্টো নীরব  ভূমিকা পালন করে । এই নীরবতাই একটি স্থায়ী রাজনৈতিক সংগঠনের প্রয়ােজনীয়তাকে অপরিহার্য করে তুলে ।


কয়েক মাস পর ঢাকায় অনুষ্ঠিত শিক্ষা  সম্মেলনে একটি রাজনৈতিক দল গঠনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত  হয় তাই যে সিমলা ডেপুটেশন থেকেই গ্রহণ করা হয় । ১৯০৬ সালের ২৭ ডিসেম্বর ঢাকায় শিক্ষা সম্মেলন শুরু হয়ে ৩০ ডিসেম্বর পর্যন্ত এই  অধিবেশন চলে । শিক্ষা সম্মেলনের রাজনৈতিক অধিবেশনে ভিকার – উল মুলকের সভাপতিত্বে অধিবেশনের মূল বক্তা নবাব সলিমুল্লাহ – এর প্রস্তাবে এবং হাকিম আজমল খানের সমর্থনে নিখিল ভারত মুসলিম লীগ গঠিত হয় ।


মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠার গুরুত্ব ও তাৎপর্য


ভারতবর্ষের রাজনৈতিক অঙ্গনের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সূচনাকারী ঘটনা হলাে ১৯০৬ সালে মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে । মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠা একদিকে রাজনৈতিক অধিকার আদায়ের প্লাটফর্ম হয়  আবার অন্যদিকে রাজনৈতিক , সামাজিক , সাংস্কৃতিক শিক্ষাক্ষেত্রে অধিকার প্রতিষ্ঠার কারন ও  হিসেবে মুসলমানদের জীবনে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনয়ন করে । নিচে  মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠার গুরুত্ব ও তাৎপর্য আলােচনা করা হলাে 


১. মুসলমানদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি : 


কংগ্রেস প্রতিষ্ঠার পর থেকেই মুসলমানদেরকে অবহেলার চোখে বিবেচনা করে নির্যাতন অব্যাহত রাখা হয়েছিল |  তাই এভাবে কংগ্রেস নেতৃবৃন্দ এবং ব্রিটিশ সরকারই উভয় শ্রেণির মিলিত তৎপরতায় মুসলমান নেতৃবৃন্দকে কংগ্রেসে যােগদান থেকে বিরত রাখে এবং বঙ্গভঙ্গকে মুসলমানদের স্বার্থের অনুকূলে বিবেচনা করে মুসলমানদের পক্ষে অবস্থা নেয় । আর  এভাবেই মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠিত হয় এবং মুসলমানদেরকে তাদের স্বার্থ ও অধিকার । সম্পর্কে সচেতন করে তােলে । 


২. মুসলমানদের আত্মজাগরণ সৃষ্টি :


 বঙ্গভঙ্গ ঘােষণার পর থেকেই কংগ্রেস নেতৃবৃন্দ বঙ্গমাতার অঙ্গচ্ছেদ মনে করে এর বিরােধিতা ও রদ করার চেষ্টা চালাতে থাকে । অপরদিকে মুসলমানরা বঙ্গভঙ্গকে মুসলমানদের স্বার্থের অনুকূলে মনে করে এর পক্ষে অবস্থান নেয় ।


 এতে করে মুসলমানদের মধ্যে  আত্মসচেতনতা বৃদ্ধি পায় এবং দাবি ও অধিকার আদায়ের জন্য সুসংগঠিত হতে থাকে । যার কারনে  মুসলিম লীগ মুসলমানদের মধ্যে আত্মজাগরণের সৃষ্টি করে। তাই  ব্রিটিশ সরকারকে বঙ্গভঙ্গ রদ না করার পক্ষে চাপ প্রয়ােগ করেছে । 


৩.মুসলমানদের সর্বভারতীয় রাজনীতিতে প্রবেশ : 


 আবার মুসলমানদের মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠার আগে অন্য  কোনাে রাজনৈতিক সংগঠন দল  ছিল না । মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠার আগে  মুসলমানরা রাজনৈতিক সম্পর্কে অসচেতন  ছিল। তবে  রাজনৈতিক অনীহা থাকলেও মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠা মুসলমানদেরকে রাজনৈতিক সচেতন  করে। রাজনৈতিক ক্ষেত্রে  অনেক আগ্রহী করে তােলে । এছাড়া বিভিন্ন দাবিদাওয়া ও অধিকার আদায় নিয়ে ব্রিটিশ সরকার ও কংগ্রেস নেতৃবৃন্দের সাথে দেন – দরবার এই অগ্রহকে অতিমাত্রায় বৃদ্ধি করতে থাকে  । এভাবে মুসলমানদেরকে সর্বভারতীয় রাজনীতিতে প্রবেশের সুযােগ সৃষ্টি করে দিয়েছে মুসলিম লীগ । 


৪. মুসলমানদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট দাবি – দাওয়া উপস্থাপন : 


মুসলমানদের বিভিন্ন দাবি -  দাওয়া সম্পর্কে মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠার আগে  ব্রিটিশ সরকারকে অবগত করার জন্য স্মারকলিপি ও চিঠিপত্র আবার কখনাে কখনাে কংগ্রেসের পিছনে দৌড়াতে হতো তাদের  ।


কিন্তু মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠার পর এসবের পরিবর্তে মুসলমানদের দাবি – দাওয়া এবং  সরাসরি মুসলিম লীগের মাধ্যমে ব্রিটিশ সরকারের কাছে উপস্থাপন করা সম্ভব হয় ।  এর ফলে পূর্বের চেয়ে ব্রিটিশ সরকার মুসলমালদের ব্যাপারে  আর অধিক সচেতন হয়ে ওঠে । 


৫. হিন্দু – মুসলমান বিবাধাকে স্থায়ীরূপ দান :


হিন্দু নেতৃবৃন্দ মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠাকে বাঁকা চোখে দেখে পিওটাক্ষ করেছে । এই নীতি মুসলমানদেকে মুসলিম লীগের পতাকা তলে আর হিন্দুদেরকে কংগ্রেসের পতাকা তুলে নেওযার মাধ্যমে সমগ্র ভারতেও হিন্দু – মুসলমান সাম্প্রদায়িকতাকে উস্কে দিয়েছে তারা  । যার কারনে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা প্রবল রূপ নেয় এবং  তা দীর্ঘস্থায়ী হয় । 

১৯০৬ সালের ১ অক্টোবর আগা খানের নেতৃত্বে গভর্নর জেনারেল লর্ড মিন্টোর সাথে সাক্ষাৎ করে পৌরসভা , জেলা বাের্ড এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সিলেট ও সিন্ডিকেট মুসলমানদের জন্য  কিছু নির্দিষ্ট সংখ্যক আসন সংরক্ষন  করে এবং জনসংখ্যার অনুপাতে নয় বরং রাজনৈতিক গুরুত্বের কথার  ভিত্তিতে মুসলমানদের জন্য প্রাদেশিক কাউন্সিল নির্বাচনের দাবি জানানো হয়েছিল। 


 তাই এই দাবির ধারাবাহিকতায় ১৯০৯ সালে মলি – মিন্টো সংস্কারের অধীনে ব্রিটিশ সরকার পৃথক নির্বাচনের দাবি মেনে নিয়েছিল । এই দাবি মেনে নেওয়ার পিছনে মুসলীম লীগ প্রতিষ্ঠার গুরুত্ব ছিল অনেক  ।

৭. দ্বিজাতি তত্ব ও লাহাের প্রস্তাব : 


হিন্দু – মুসলিম তিক্ততা বৃদ্ধি পেতে থাকে আস্তে আস্তে। মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠার পর থেকেই এবং বিশ্বাস অবিশ্বাসের পাল্লাটাও ঝুলতে থাকে । মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে মুসলমানরা অধিক রাজনৈতিক সচেতন হয়ে ওঠে এবং স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে মুসলমানদের সমর্থক সংখ্যা বৃদ্ধিও পায় । কংগ্রেস ব্রিটিশ সরকারকে বঙ্গভঙ্গ রদ করতে বাধ্য করলেও মুসলিম লীগ এর বিরুদ্ধে প্রবল আন্দোলন গড়ে তােলে।


প্রথমদিকে মুসলিম লীগ নেতৃত্ব সফল না হলেও এর পরে ১৯৪০ সালে লাহাের প্রস্তাবের পর কংগ্রেস বিরােধী আন্দোলন চাঙ্গা হয়। হিন্দু – মুসলিম দ্বন্দ্বের তিক্ততার মধ্যেও মুহম্মদ আলী জিন্নাহ ‘ দ্বিজাতি ত ‘ উপস্থাপন করলে এটা মুসলিম লীগের দাবি হিসেবে ব্যাপক সমর্থন লাভ করে , যার ফলে ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা হয় ।


 লাহাের প্রস্তাবের বৈশিষ্ট্য ও গুরুত্ব / তাৎপর্য 


১৯৪০ সালের ২৩ মার্চ অবিভক্ত পাঞ্জাবের রাজধানী লাহােরে নিখিল ভারত মুসলিমলীগের অধিবেশনে অবিভক্ত বাংলার মুখ্যমন্ত্রী শেরে বাংলা এ.কে. ফজলুল হক “ লাহাের প্রস্তাবটি পেশ করেন । বিপুল পরিমাণ উৎসাহ ও উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে  ২৪ মার্চ প্রস্তাবটি গৃহীত হয় ।


নিচে লাহাের প্রস্তাবের মূল বৈশিষ্ট্যসমূহ দেওয়া হলাে : 


০১। ভৌগােলিক দিক থেকে সংলগ্ন এলাকাগুলােকে পৃথক পৃথক অঞ্চল বলে গণ্য করতে হবে । 


০২। উত্তর – পশ্চিম ও পূর্ব ভারতের সমস্ত অঞ্চলের সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমানদের সমন্বয়ে একাধিক স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্রগঠন করতে হবে এবং এর  সমস্ত স্বাধীন রাষ্ট্রের অঙ্গরাজ্য হবে সার্বভৌম ও স্বায়ত্তশাসিত । 


০৩। ভারতের ও নবগঠিত মুসলিম রাষ্ট্রের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সাংস্কৃতিক , শাসনতান্ত্রিক এবং অন্যান্য অধিকার ও স্বার্থ সংরক্ষণের কার্যকর  করার ব্যবস্থা করা হবে । আবার সংখ্যালঘুদের স্বার্থরক্ষার সার্বিক ব্যবস্থা সংবিধানে থাকতে হবে । 


০৪। দেশের যেকোনাে ভবিষ্যৎ শাসনতান্ত্রিক পরিকল্পনায় উক্ত বিষয়গুলােকে মৌলিক নীতি হিসেবে গ্রহণ করতে হবে ।


লাহাের প্রস্তাবের গুরুত্ব


১৯৪০ সালের লাহাের প্রস্তাব  হলো পূর্ব – পাকিস্তানের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা । এই প্রস্তাবের মাধ্যমে শােষিত , উপেক্ষিত এবং  এক বৃহৎ জনগােষ্ঠীর স্বাধীনতার প্রয়ােজনীয়তা স্পষ্টভাবে মানুষের সামনে উঠে আসে ।


মূলত লাহাের প্রস্তাবের পর থেকেই ভারভীয় উপমহাদেশের পট – পরিবর্তন  হতে শুরু হয়। নিচে লাহাের প্রস্তাবের গুরুত্ব আলােচনা করা হলাে : 


১। দ্বিজাতি তত্বের সূচনা : 


ভারতীয় উপমহাদেশে হিন্দুদের সংখ্যাগরিষ্ঠতার কারণে সংখ্যালঘু মুসলমানরা অনেক  ক্ষেত্রে বৈষম্যের স্বীকার হতে  হয় । তাই  এর থেকে পরিত্রাণ পাওয়ার জন্য লাহাের প্রস্তাবে “ এক জাতি , এক রাষ্ট্র নীতির দাবি করা হয় ।


দাবির মূল কথাই ছিল হিন্দুদের জন্য একটি রাষ্ট্র এবং মুসলমানদের জন্য আলাদা একটি রাষ্ট্র প্রতিষ্টা  করতে হবে । এই নীতির প্রেক্ষিতেই মােহম্মদ আলী জিন্নাহ দ্বিজাতি তত্বের ঘােষণা দেন । 


২। স্বাধীন বাংলাদেশের রূপরেখা :


 লাহাের প্রস্তাবের মূল বিষয়গুলাে পর্যালােচনা করলে দেখা যায় ,যে  বাংলার বাঘ এ.কে. ফজলুল হক বাংলাদেশকে স্বাধীন করার পথ অতি  সুগম করতে চেয়েছিলেন । লাহাের প্রস্তাব  পাশ হলে বাংলাদেশের মানুষের মধ্যে  নতুন স্বপ্নের সৃষ্টি হয় । যা ইংরেজদের হাত  থেকে মুক্তি পাওয়ার আকাঙ্খা প্রকাশ পায় । 


৩ | মুসলমানদের স্বতন্ত্র স্বীকৃতি :


 ইংরেজ আমল শুরু হওয়ার পর থেকেই ভারতীয় মুসলমানদের আধিপত্য ক্রমেই হ্রাস পেতে থাকে । মুসলমানরা সংখ্যালঘুতে পরিণত হয়ে বাস করা শুরু করে ।


তাদের মধ্যে এই উপলদ্ধি হয় যে ভারত স্বাধীনতা অর্জন করলে মুসলমানরা হিন্দুদের তুলনায়  অনেক পিছিয়ে থাকবে ।  আর তাই এর প্রেক্ষিতে লাহাের প্রস্তাব উত্থাপিত হলে মুসলমানদের মধ্যে স্বতন্ত্র জাতিসম্বর উপলব্ধি ঘটে । যা স্বাধীন পাকিস্তান সৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে । 


৪। ভারত ও পাকিস্তানের সৃষ্টি : 


লাহাের প্রস্তাবে ভারতীয় উপমহাদেশকে ভেঙ্গে দুটি স্বাধীন রাষ্ট্র গঠনের প্রস্তাব দেওয়া হয় । এর প্রেক্ষিতে হিন্দু ও মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে ভারত ও পাকিস্তান রাষ্ট্রের সৃষ্টি হয়  মুসলমান মানুষের এলাকা নিয়ে ১৪ আগষ্ট পাকিস্তান এবং হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ঠ এলাকা নিয়ে ১৫ আগষ্ট ভারত রাষ্ট্রের সৃষ্টি হয়। 


৫। মুসলিম জাতিয়তাবাদের উন্মষ : 


লাহাের প্রস্তাবের ভিত্তিতে ভারতীয় উপমহাদেশে মুসলিম জাতীয়তাবাদ  অনেক তীব্র আকার ধারণ করতে থাকে,   এবং যা  বিভিন্ন পর্যায় অতিক্রম করে মন্সুদের  দিকে এগিয়ে যায় । ইংরেজদের বিরুদ্ধে আন্দোলনে এই মুসলিম জাতীয়তাবাদ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। 


দ্বিজাতিতম্বের বৈশিষ্ট্য ও গুরুত্ব তাৎপর্য


 দ্বিজাতিতত্ত্ব  অর্থ হল দুটি জাতির জন্য আলাদা আলাদা তত্ব । ভারতে হিন্দু ও মুসলমান যে দুটি আলাদা জাতি  ছিল, সেই ধারণার রূপায়ণ সাম্প্রদায়িকতার বিষবাষ্প থেকে দ্বিজাতিতত্ত্বের উদ্ভব উনিশ শতকের প্রথমভাগ থেকেই হিন্দু ও মুসলিম এই দুই সম্প্রদায় সমাজে আলাদা আলাদাভাবে নিজেদের অবস্থানকে দৃঢ় করতে চাইলে এই তত্ত্বের অবতারণা ঘটে ।


এ প্রসঙ্গে জওহরলাল নেহরু বলেছেন । একথা ভুললে চলবে না  এই যে ভারতে সাম্প্রদায়িকতা পরবর্তীকালের বৈশিষ্ট্য –  যা আমাদের চোখের সামনেই তা সৃষ্টি হয়েছে। 


পাকিস্তান আন্দোলনে দ্বিজাতি তত্ত্বের প্রভাব 


জিন্নাহর ‘ দ্বিজাতি তত্ত্ব ছিল ১৯৪০ সালের লাহাের প্রস্তাব বা পাকিস্তান প্রস্তাবের মূলভিত্তি । যদিও লাহাের প্রস্তাবে ‘ পাকিস্তান কিংবা ‘ দ্বিজাতি তত্ত্বের কথা উল্লেখ ছিল না । 


ধর্ম এক হলেই এক জাতি হয় না –তাই  বাংলাদেশের অভ্যুদয় এর বড় প্রমাণ । তাই বলা যায় যে   , জিন্নার দ্বিজাতি তত্ত্ব ছিল বিকৃত ও অসম্পূর্ণ এবং বিভ্রান্তকর তত্ত্ব । যা এটি ছিল সাম্প্রদায়িকতার দোষে দুষ্টতত্ত্ব । বাঙালি জাতীয়তাবাদ ভাষাভিত্তিক জাতীয়তাবাদ হিসেবে পরিচিত । জাতি গঠনে যে একই ভাষাভাষী , গােষ্ঠীভুক্ত ও রক্ত – সম্বন্ধের অধিকারী হতে হয় তাও  কিন্তু নয় ।


ভারত , মালয়েশিয়া , সুইজারল্যান্ড , কানাডা এর উদাহরণ । জাতিসত্তা হচ্ছে একটি নির্দিষ্ট ভূখন্ডে যা বসবাসকারী জনগােষ্ঠীর এক অভিন্ন ইতিবাচক সচেতনতা , একই রাষ্ট্রীয় কাঠামােয় বসবাসের ইচছা এর প্রকাশিত রূপ।


জিন্নাহর দ্বিজাতি তত্ত্ব বৈজ্ঞানিক ভিত্তির উপর রচিত ছিল না । তা ছিল প্রধানত , অখন্ড ভারতে অনিবার্য হিন্দু এলিট গােষ্ঠী। আধিপত্যের স্থলে ভারত বিভক্তি এবং আলাদা রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে এর  থেকে স্থায়ী পরিত্রাণের লক্ষ্যে ভিন্ন ভিন্ন স্বার্থ , কৃষ্টি , ভাষা , অঞ্চল ও ঐতিহ্যে বিভক্ত ভারতীয় মুসলমানদেরকে একই পতাকা তলে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার একটি ভিত্তি।


ভারতীয় উপমহাদেশে ইংরেজ শাসনের শুরু থেকেই মুসলমানদের প্রতি ইংরেজ সরকার সন্দিহান থাকে । তাই  মুসলমানরাও দীর্ঘসময় অসহযােগিতার নীতি অনুসরণ করে ।  যার ফলে জীবনের প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রে তারাই পিছিয়ে পড়ে বা উপেক্ষিত হতে থাকে  । অবিভক্ত ভারতে সংখ্যাগরিষ্ঠ ও অগ্রসর হিন্দু সম্প্রদায়ের স্থায়ী অধিপত্যের ভীতি মুসলমানদেরকে শঙ্কিত করে তােলে । ১৯৩৭ সালের নির্বাচনের পর বিভিন্ন প্রদেশে কংগ্রেসের নেতৃত্বে সরকার গঠন , হিন্দু অধিপত্যের বহিঃ প্রকাশ প্রভৃতি ভারতীয় মুসলমানদের ভবিষ্যৎ সম্বন্ধে প্রচন্ডভাবে ভাবিয়ে তােলে ।


 তাই  এমতাবস্থায় জিন্নাহ তাঁর দ্বিজাতি তত্ত্বের ভিত্তিতে ভারতের বিভক্তি ও পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার দাবি উত্থাপন করলে,  তা ভারতীয় মুসলমানদের চেতনামূলে অগ্নিস্ফুলিঙ্গ জ্বালিয়ে দেয় ।  ফলে পৃথক আবাসভূমি বা স্বাধীনতার স্বপ্ন তাদেরকে জাগিয়ে তুলে  । পাকিস্তান আন্দোলনে তারা  অপ্রতিরােধ্য হয়ে দাঁড়ায় ।


পাকিস্তান ইস্যুতে ১৯৪৬ সালের নির্বাচনে মুসলিম লীগ বিপুল সাফল্য অর্জন করে । নির্বাচনে ব্রিটিশ সরকার এবং  ভারতে একটি মন্ত্রী মিশন প্রেরণ করে যা অত্যন্ত শিথিল বন্ধনীর মধ্যে ভারতকে অখন্ডিত রাখার সর্বশেষ চেষ্টা করে । কিন্তু তা সফল হয় নি । অবশেষে জিন্নাহর দ্বিজাতি তত্ত্বের ভিত্তিতে ১৯৪৭ সালে ভারত বিভক্ত হয় । প্রতিষ্ঠালাভ করে দুটি স্বাধীন রাষ্ট্র ,  যা একটি ভারত এবং অপরটি  পাকিস্তান ।

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url